নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
দুর্গম নৌপথে শিক্ষা অফিসারের প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন, নানিয়ারচর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কৃষ্ণলাল দেবনাথ ও উপজেলা প্রাইমারি এডুকেশন ট্রেনিং সেন্টার ইন্সট্রাক্টর সরওয়ার কামাল।
মঙ্গলবার সকালে গোলসাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তৈচাকমামুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বেতছড়িমুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন তারা।
পরিদর্শনকালে বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। একাডেমিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে Foundational Literacy and Numeracy (FLN) তথা শিক্ষার্থীদের মৌলিক স্বাক্ষরতা ও সংখ্যাজ্ঞান অর্জন এবং পঠন ও গাণিতিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পরিচালিত কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হয়।
বিশেষভাবে তৃতীয় শ্রেণির বাংলা, চতুর্থ শ্রেণির গণিত এবং পঞ্চম শ্রেণির ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষার্থীদের পঠন ও গাণিতিক দক্ষতার বর্তমান অবস্থা এবং অগ্রগতি যাচাই করা হয়। পরিদর্শন শেষে শিক্ষকদের কার্যক্রমের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের শিখন-অর্জন আরও উন্নত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন, উপজেলা প্রাইমারি এডুকেশন ট্রেনিং সেন্টার ইন্সট্রাক্টর সরওয়ার কামাল।
পরিদর্শনে দেখা যায়, শিক্ষকগণ শিক্ষার্থীদের বেইসলাইন নির্ধারণের মাধ্যমে তাদের পাঠগত ও শিখনস্তর—অগ্রগামী, মধ্যম ও দুর্বল—চিহ্নিত করে স্তরভিত্তিক পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এর ফলে শিক্ষার্থীদের পঠন দক্ষতা ও গাণিতিক দক্ষতায় ইতিবাচক অগ্রগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের পঠন ও গাণিতিক দক্ষতা বৃদ্ধির হার প্রায় ৮০ শতাংশ। আগামী নভেম্বরের মধ্যে শিক্ষার্থীদের শতভাগ পঠন ও গাণিতিক দক্ষতা অর্জন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শিক্ষকগণ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন।
পরিদর্শনকৃত বিদ্যালয়গুলো অত্যন্ত দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত। কাপ্তাই লেকের ওপর দিয়ে একমাত্র নৌপথেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয়। এমনকি অনেক দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থী শিক্ষকদের ইঞ্জিনচালিত নৌযানে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে থাকে। দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা ছাড়াও অভিভাবকদের আর্থিক অসচ্ছলতা, অসচেতনতা, শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং বাড়িতে নিয়মিত অনুশীলনের পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পঠন ও গাণিতিক দক্ষতা অর্জনের গতি তুলনামূলকভাবে ধীর।
এ পরিস্থিতির উন্নয়নে শিক্ষকগণ মা সমাবেশ, অভিভাবক সমাবেশ, ম্যানেজিং কমিটি ও পিটিএ কমিটির সভা এবং স্টাফ মিটিং (PDM) আয়োজনের মাধ্যমে অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, বাড়িতে অনুশীলনের পরিবেশ সৃষ্টি এবং স্তরভিত্তিক পাঠদানের মাধ্যমে তাদের পঠন ও গাণিতিক দক্ষতা আরও দ্রুত উন্নয়নের জন্য শিক্ষকগণ ধারাবাহিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এবিষয়ে নানিয়ারচর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কৃষ্ণলাল দেবনাথ জানান, সার্বিক পরিদর্শনে বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকগণের আন্তরিকতা, দায়িত্বশীলতা ও প্রচেষ্টা আশাব্যঞ্জক বলে প্রতীয়মান হয়েছে। নভেম্বর ২০২৬ এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের শতভাগ পঠন ও গাণিতিক দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে চলমান কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিত সাফল্য বয়ে আনবে এমনটাই আশা করছি।
বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে বিদ্যালয় সমূহের প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক ও অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

