।। হাসান মাহমুদ, (আলীকদম প্রতিনিধি )।।
বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে। পুনর্গঠিত পরিষদে আলীকদম উপজেলা থেকে মংক্যনু মার্মা ও আগষ্টিন ত্রিপুরা সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এ খবরে আলীকদমের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে উৎসাহ ও আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছাড়া বাকি ১৪ সদস্যের মধ্যে আলীকদম উপজেলা থেকে মংক্যনু মার্মা ও আগষ্টিন ত্রিপুরাকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আলীকদম থেকে একই পরিষদে দুইজন সদস্য অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নতুন পরিষদের সদস্যরা আলীকদম উপজেলার দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো জেলা পরিষদের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তুলে ধরবেন এবং উপজেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।
বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগব্যবস্থা, কৃষি, পর্যটন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং প্রত্যন্ত এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নে জেলা পরিষদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আলীকদমের দুর্গম এলাকাগুলোতে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ এবং জনগণের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণে নতুন সদস্যরা ভূমিকা রাখবেন এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, পার্বত্য অঞ্চলের ভৌগোলিক ও সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় জেলা পরিষদে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব থাকা গুরুত্বপূর্ণ। আলীকদম থেকে দুইজন সদস্যের অন্তর্ভুক্তি উপজেলার মানুষের সঙ্গে জেলা পরিষদের সমন্বয় আরও জোরদার করবে এবং স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় আলীকদমের বিষয়গুলোকে অধিক গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করবে।
নবনিযুক্ত সদস্যদের কাছে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তারা দলমত ও সম্প্রদায়ের ঊর্ধ্বে উঠে আলীকদমের সামগ্রিক উন্নয়ন, জনগণের কল্যাণ এবং পাহাড়ি-বাঙালি সকল সম্প্রদায়ের পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানকে গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালন করবেন।
এদিকে নতুন পরিষদকে ঘিরে আলীকদমবাসীর প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আলীকদম আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত হবে।

