নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান (এমপি)‘র পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে রাঙামাটি জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে পদত্যাগপত্রের একটি কপি গণমাধ্যমে শেয়ার করেন।
সোমবার (১ জুন) বিকেলে রাঙামাটি জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে পদত্যাগ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন দলের নেতাকর্মীরা।
এর আগে পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পেলে সাথে সাথেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিব্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা যায়। পরে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে দলীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে দলের নেতাকর্মীরা। মিছিল শেষে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশে অংশগ্রহণ করে বিভিন্ন অংগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এসময় রাঙামাটি জেলা বিএনপির সহ সভাপতি সাইফুল ইসলাম ভুট্ট বলেন, পার্বত্য মন্ত্রী পদত্যাগের বিষয়টি আমি কেন রাঙামাটি সহ পার্বত্য চট্টগ্রামের কোন জনগণই ভালোভাবে মেনে নিতে না। উনার মতো স্বজ্জন ব্যক্তি, নিরহংকার, সদালাপি এবং সৎ মানুষ যদি পদত্যাগ করেন এবং শারীরিক অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করেন। বিগত সময়ে তিনি যখন ৯মাস ৩১ দফা রাষ্ট্র মেরামতে কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য সারা রাঙামাটি ঘুরে বেড়িয়েছেন। তিনি মন্ত্রী হবার পরও রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে ঘুরে বেড়িয়েছেন। তখন তো অসুস্থতাবোধ করেননি। উনার শারীরিক অবস্থার কথা আমরা জানিনা। তবে আমরা হতবাক হয়েছি। কিন্তু এখন উনাকে জোর করে পার্বত্য চট্টগ্রামের স্বার্থ্যের বিরুদ্ধে এবং উনার চিন্তা চেতনার বিরুদ্ধে যদি পদত্যাগে বাধ্য করে এটা জনগণ ভালোভাবে নেবে না। আমি মনে করি আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবিসয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
এবিষয়ে রাঙামাটি জেলা বিএনপির সহ সভাপতি সাইফুল ইসলাম পনির জানান, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ফলে রাঙামাটিবাসী সহ তিন পার্বত্য জেলা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। জনগণ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যোগ্য ব্যক্তিদের চিনতে পারেন। তিনি পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ পত্র পুনঃবিবেচনা করে তাকে পূনরায় এই পদে পদায়িত করে জনগণের সেবা করার সুযোগ দিবেন।
বক্তব্যে বক্তারা আরো বলেন, কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠি পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষ কে সম্প্রীতি ও শান্তিতে থাকতে দিতে চায় না। তারা তাদের স্বার্থে একজন সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতো একটা গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দিতে চাই বলেও অভিযোগ করেন বক্তারা।

