নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনা ও নানা আলোচনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হলেন দীপন তালুকদার দীপু।
বৃহস্পতিবার (২০ আগষ্ট) বিকেলে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে মন্ত্রণালয়ের পরিষদ-১ শাখা থেকে এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন-১৯৮৯, তিন জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন, ১৯৯৭-এর ১৬ক(৪) উপধারা এবং তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন, ২০১৪-এর ৪(২) ও ২(২) উপধারার ক্ষমতাবলে এই অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ গঠন করা হয়েছে। পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত নতুন পরিষদ সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধান অনুযায়ী নিজ নিজ জেলার দায়িত্ব পালন করবে।’
এতে চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছেন রাঙামাটি জেলা জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)র সভাপতি দীপন তালুকদার দীপু এবং ১৫ সদস্যের মধ্যে জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মামুনুর রশিদ সদস্য নিযুক্ত হয়েছেন।
প্রজ্ঞাপন আনুযায়ী রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অন্যান্য সদস্যরা হলেন, শাশ্বত চাকমা, বিন্দু চাকমা, সুবিমল চাকমা, অনিল বরণ চাকমা, উহ্লাচিং মং, পাইচিং মং মার্মা, মিস্ প্রেমা তালুকদার, তিমথী খিয়াং, সুপর্ণ দেব বর্মন, মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ, মো: তোফাজ্জল হোসেন, মোহাম্মদ ফারুক, মিজ নন্দিতা দাস ও মিজ চন্দা চাকমা।
এদিকে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে পার্বত্য জেলা পরিষদকে ঘিরে চলা নানা আলোচনা ও অনিশ্চয়তার অবসান হলো। চেয়ারম্যান হিসেবে দীপন তালুকদারের দায়িত্ব গ্রহণের খবরে রাঙামাটির রাজনৈতিক, সামাজিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা প্রতিক্রিয়া। তার নেতৃত্বে পার্বত্য জেলা পরিষদের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং জেলার মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এমন প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ পার্বত্য জেলার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগ, অবকাঠামো ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও মৌলিক সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পরিষদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন চেয়ারম্যানের কাছে স্থানীয়দের অন্যতম প্রত্যাশা হলো, দুর্গম এলাকার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ, কৃষি ও পর্যটন খাতের উন্নয়ন এবং পরিষদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
অপরদিকে দীপন তালুকদার চেয়ারম্যান হওয়ায় তার অনুসারী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে অভিনন্দন জানিয়ে বিভিন্ন পোস্ট দিতে দেখা গেছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নতুন নেতৃত্বে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ জেলার মানুষের কল্যাণে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে পাহাড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে বাস্তবমুখী উদ্যোগ নেওয়া হবে। দীপন তালুকদারের নেতৃত্বে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ আগামী দিনে কী ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করে এবং জেলার মানুষের প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারে এখন সেটিই দেখার বিষয় বলেও মন্তব্য করেছেন স্থানীয়রা।

