নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
পার্বত্য জেলা রাঙামাটির মানিকছড়িতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী পিকআপ উল্টে ৪জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও দুজন।
রোববার (১৬ আগস্ট) ভোর ৫টায় মানিকছড়ি আর্মি ক্যাম্পের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এঘটনায় নিহতরা হলেন মেঘরানী চাকমা, শান্তনা চাকমা, শান্তি রঞ্জন চাকমা ও শোভা চাকমা। আহতরা হলেন, পিকআপচালক জ্ঞান বিকাশ চাকমা ও যাত্রী সুমন চাকমা। তারা রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাঙামাটি শহর থেকে যাত্রী নিয়ে পিকআপটি (চট্টগ্রাম মেট্রো-ন-১১-২৫৯৯) কুতুকছড়ি বাজারের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মানিকছড়ি আর্মি ক্যাম্পের সামনে পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এতে পিকআপটি সড়ক থেকে ছিটকে পড়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শোভা চাকমাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তিনজনের মরদেহ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।
নিহত মেঘরানী চাকমা ও শোভা চাকমার বাড়ি নানিয়ারচর উপজেলার ঘিলাছড়ি এলাকায়। শান্তনা চাকমা রাঙামাটি শহরের আমানতবাগ এবং শান্তি রঞ্জন চাকমা বিজয়নগর এলাকার বাসিন্দা।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রোববার সকাল ৯টার দিকে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে যান রাঙামাটি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। তিনি চিকিৎসাধীন আহতদের খোঁজখবর নেন এবং নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সান্ত্বনা দেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান বলেন, রাঙামাটির দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে দুর্ঘটনা কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপনের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সড়ক সংস্কার ও নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে চালক ও যাত্রীদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
