নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
বদলির আদেশ অমান্য করে পূর্বের কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন, প্রভাব বিস্তার ও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে রাঙামাটির কোতোয়ালি থানা পুলিশের এক উপ-পরিদর্শক (এসআই) মহিউদ্দিন আলমগীর এর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পরিবর্তে তিনি পূর্বের স্টেশনে অবস্থান করে বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন। এতে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এসআই মহিউদ্দিন কে চট্টগ্রাম চেঞ্জ দপ্তর হতে এক আদেশ এর মাধ্যমে রাঙামাটি হতে চাঁদপুর জেলায় বদলি করা হয়। বদলির আদেশ জারি হওয়ার পরও তিনি পূর্বের কর্মস্থল রাঙামাটি কোতোয়ালী থানা ছাড়েননি। সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কার্যক্রমেও তিনি বিভিন্নভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। এ কারণে থানার স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম ও সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও তার বিরুদ্ধে সরব রাঙামাটির নেটিজেনরা। তাকে নিয়ে রাঙামাটির পৌর ছাত্রদলের আহব্বায়ক কমিটির সদস্য ও পশ্চিম মুসলিম পাড়া সমাজ কমিটির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক এমএ জয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্ট করে। তাতে তিনি উল্লেখ করেন, রাংগামাটি থানার দায়িত্বশীলদের সচ্ছ ও ফ্যাসিস্ট সহ সৎ পুলিশদের আইনের আওতায় আনা উচিৎ। এসআই (নিরস্ত্র) মহিউদ্দিন কে দু মাস আগে বদলি করা হলে সে কিভাবে এখনো রাংগামাটি থানায় পরে থাকে। তার বিরুদ্ধে শহরের নানা অভিযোগ সেই সাথে মাদকাসক্তদের সে আইনের আওতায় না এনে বরং সুসম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছে। এর বাহিরেও মানিক ছড়ি ফাঁড়িতে বসে গাড়ি ধরে রুমে নিয়ে গিয়ে ৪০/৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে সুবিধা সহ নানা অপরাধ কে টাকার বিনিময়ে ধামাচাপা ও সকল ধরনের ধান্দাবাজি সে করতো। সে অংশ থেকে উপর মহলেও দিতো থানার উর্ধ্বতম অফিসার কে। যার হুকুমে সে গুন্ডাগিরি করে নিরিহ অসহায়দের সাথে ও মানুষদের হয়রানি সহ নানান অপকর্ম করতো। এই এসআই মহিউদ্দিন কোতোয়ালি থানার সরকারি গাড়ি ব্যাতীত একটি সাদা রং এর প্রাইভেট কার নিয়ে শহরের আনাচে কানাচে গিয়ে বিভিন্ন মানুষকে হুমকি ধামকি সহ অবৈধ লেনদেন করে।
তিনি তার পোস্টে আরো উল্লেখ করেন, ইয়াবা ব্যবসায়িদের সাথে তার সুসম্পর্ক অর্থ লেনদেনের বিনিময়ে ব্যাবসায়ীদের ৩৪ এ চালান দেয় যার বিনিময়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। কথা হলো কার নির্দেশে মহিউদ্দিন এখনো রাংগামাটি? তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন নয়ত এই ফ্যাসিস্ট রাঙামাটি শহরকে ওসির নির্দেশে পুরো কলঙ্কিত করছে বলে ও উল্লেখ করেন তিনি। অপরদিকে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
এবিষয়ে জানতে রাঙামাটি কোতোয়ালী থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ জসিম উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমরা তাকে সিসি (ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট) দিয়ে দিয়েছি। সে অন্য জেলায় বদলি হয়েছে৷ তাকে এখানে রেখে দেওয়ার কোন সুযোগ আমাদের নেই বলেও এই পুলিশ অফিসার।
এ বিষয়ে এসআই মহিউদ্দিনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি জানান, বদলির বিষয়টি আমার হাতে নেই। আমাকে কর্তৃপক্ষ যখন নিয়ে যাবে আমি তখনই যাব। বদলি আদেশের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি সততার সাথে দায়িত্ব পালন করেছি। মাদকের বিরুদ্ধে আমার কঠোর অবস্থান রয়েছে। আমি হাজার হাজার ইয়াবা আটক করেছি। বদলি আদেশ আসার পরেও কাগজপত্র ঠিক করে জমা দিয়ে যেতেও ২/৩ মাস লেগে যায় বলেও প্রশ্ন এড়িয়ে যান তিনি। এসময় তিনি বলেন, আমি খুব শিঘ্রই চলে যাবো। তবে আমি চলে যাওয়ার পরে রাঙামাটি শহরে ইয়াবা সহ মাদকের ব্যাপারে অস্থিরতা দেখা দিবে বলেও জানান তিনি। এক্ষেত্রে অন্তু, রুবেল, নাসির ও বেলাল নামের বেশ কজন ইয়াবা ব্যবসায়ীর নামও উল্লেখ করেন তিনি।

