মাহাদী বিন সুলতানঃ
পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল আধুনিক শিক্ষার বিস্তার থেকে অনেকটা দূরে থাকলেও নানিয়ারচর উপজেলার এই পাহাড়ি জনপদে যাত্রা শুরু করেছে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল এন্ড কলেজ।
রোববার বিকেলে নানিয়ারচর উপজেলার ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের নাঙেল পাড়া এলাকায় দেখা যায় সড়কের পাশেই পাহাড়ের কোল ঘেষে ইংরেজি শিক্ষার পাঠদান করে যাছে ঘিলেছড়ি মাগুরুম স্কুল এন্ড কলেজ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৬ডিসেম্বর বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রকৌশলী লিটন চাকমার উদ্যোগ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় ঘিলাছড়ি ইউনিয়নে বিশ্বখ্যাত কেম্ব্রিজ কারিকুলামে (ইংলিশ ভার্সন) প্লে, নার্সারি ও কেজি এবং ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত ন্যাশনাল কারিকুলামে পাঠদান করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠান টি। ১৯জন শিক্ষক দ্বারা পাঠদান করে যাচ্ছে ঘিলেছড়ি মাগুরুম স্কুল এন্ড কলেজ।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল প্রতিষ্ঠার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান,<span;> টাউনের শিশুরা ইংরেজি পড়ার সুযোগ সুবিধা ভোগ করে কিন্তু দুর্গম পাহাড়ের শিশুরাও যাতে সুযোগ পাই তাই ক্যাম্ব্রিজ কারিকুলামে <span;>ও লেভেল এবং এ লেভেল ন্যাশনাল কারিকুলাম ফলো করছি। ক্যাম্ব্রিজ কারিকুলামে ও লেভেল এবং এ লেভেলে পড়াতে যেখানে প্রায় কোটি টাকা খরচ হয় সেখানে এই দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত নাগরিকরা অনেক কম খরচেই সন্তানকে ইংলিশ মিডিয়ামে পড়াতে পারবে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের ৩টি শ্রেণিকক্ষ ও ১টি অফিস কক্ষ রয়েছে। এছাড়াও আমাদের শ্রেণিকক্ষ সঙ্কট, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, শিক্ষা উপকরণ, মাঠ ও ক্রীড়া সামগ্রী সহ বিভিন্ন বিষয়ে ঘাটতি রয়েছে। স্থানীয় বিমল কান্তি চাকমা এক একর জমি এই প্রতিষ্ঠানের জন্য দান করেন বলেও জানান তিনি।
এসময় ভাইস প্রিন্সিপাল মার্সি চাকমা, সিনিয়র শিক্ষক শ্যামল চাকমা ও সহকারী শিক্ষক সুমন চাকমা সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা প্রকৌশলী লিটন চাকমা ২০১৫ সালে ইউআইটিএস (ঢাকা) থেকে শিক্ষা জীবন শেষ করে একটি ব্রিটিশ মাল্টিন্যাশ্নাল কোম্পানিতে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে ২০২৫ সালে দেশ সেবা ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মাঝে শিক্ষা বিস্তারে তার পূর্বের পেশা ছেড়ে পুরোদমে শিক্ষকতার পেশা বেছে নেন৷ এছাড়াও তিনি খাগড়াছড়ির লক্ষিছড়ি ইংলিশ স্কুল এন্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা। এছাড়াও রাঙামাটির কলেজ গেই মন্ত্রী পাড়ার বাসিন্দা লিটন চাকমা শাউলিন কম্ফু প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন।

