আহমদ বিলাল খানঃ
দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় রোগটির বিস্তার রোধে সরকারি বিশেষ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার ১০টি উপজেলায় মসজিদ ও মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কেন্দ্রের আশপাশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
শনিবার ইসলামিক ফাউন্ডেশন রাঙ্গামাটি জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মুহাম্মদ ইকবাল বাহার চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়।
অভিযানের আওতায় রয়েছে রাঙ্গামাটি সদর, বাঘাইছড়ি, বরকল, লংগদু, নানিয়ারচর, কাপ্তাই, জুরাছড়ি, বিলাইছড়ি, কাউখালী ও রাজস্থলী উপজেলা। এসব এলাকার মসজিদ এবং মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কেন্দ্রের আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় আগামী তিন মাস প্রতি শনিবার সব সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের নিজ নিজ প্রাঙ্গণে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজ নিজ আঙিনা ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন রাঙ্গামাটি জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মুহাম্মদ ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। মসজিদ ও মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কেন্দ্রের আশপাশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি কোথাও যেন পানি জমে এডিস মশার প্রজনন না ঘটে, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, শিক্ষক, মসজিদ পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। এ কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাই।
তিনি বলেন, ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, পুরোনো টায়ারসহ বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি এ ক্ষেত্রে প্রজননস্থল হয়ে উঠতে পারে। তাই নিয়মিত এসব স্থান পরিষ্কার করা এবং পানি জমতে না দেওয়া ডেঙ্গু প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
তিনি আরো বলেন, রাঙ্গামাটির ১০টি উপজেলায় এ উদ্যোগের মাধ্যমে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাকেন্দ্রের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়মিত তদারকি এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ অব্যাহত থাকলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে।

