মেহেদী হাসানঃ
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ কৃত্রিম জলাধার রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে পর্যটকদের উচ্চস্বরে গান-বাজনা ও উচ্ছৃঙ্খল কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ বাড়ছে। এতে শিশু, শিক্ষার্থী, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দুর্ভোগের পাশাপাশি জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
রোববার জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় কাপ্তাই হ্রদে পর্যটকদের নিরাপত্তা, উচ্চস্বরে গান-বাজনা ও জনদুর্ভোগের বিষয়টি আলোচনা করা হয়।
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ হাবিব আজম বলেন, পর্যটকদের আনন্দে আপত্তি নেই; তবে বসতবাড়ির কাছে উচ্চস্বরে গান-বাজনা বন্ধে নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ ও প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে রাঙামাটি পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম বলেন, কাপ্তাই হ্রদের হাউজবোটসহ বিভিন্ন বোটে উচ্চস্বরে বাদ্যযন্ত্র, নাচ-গান ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। জেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান চালানো হবে। জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাঙামাটি ট্যুরিস্ট বোট মালিক সমিতির সভাপতি রমজান হোসেন জানান, কিছু বোট বেশি ভাড়ার আশায় উচ্চশব্দের সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে। বিশেষ করে শুক্র ও শনিবার এ ধরনের ঘটনা বেশি ঘটে। হ্রদের মাঝখানে নৌ ও ট্যুরিস্ট পুলিশের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।
এদিকে বর্ষা মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদে নৌযান চলাচলে ঝুঁকি বাড়ায় প্রতিটি বোট ও হাউজবোটে পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট রাখা ও ব্যবহার নিশ্চিতের দাবি উঠেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পর্যটকদের বিনোদনের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, সামাজিক-ধর্মীয় পরিবেশ ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে কাপ্তাই হ্রদের গুরুত্বপূর্ণ মৎস্যসম্পদ ও জলজ পরিবেশ রক্ষায় অপ্রয়োজনীয় উচ্চশব্দ নিয়ন্ত্রণে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।

