নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
রাঙামাটির নানিয়ারচরে দীর্ঘ ৩৭বছর পরে বেদখল হওয়া রেকর্ডভুক্ত জমির প্লটের সীমানা চিহ্নিতকরণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বাজার ফান্ড প্রশাসন।
সোমবার দুপুরে রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলা সদরের প্রধান সড়কের পাশে বাজার ফান্ডের সার্ভেয়ার তাসোমনি চাকমা ও কানুনগো নির্মল কান্তি চাকমা ৫৩, ৫৫, ৫৯, ৬২, ৬৩ ও ৬৫নং প্লটের সীমানা চিহ্নিতকরণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানায়, ১৯৮৪-৮৫ সনে বন্দো মামলা নং-১০৭/৮৪-৮৫ মূলে তাদের নামে বন্দোবস্ত দেন তৎকালিন বাজর ফান্ড প্রশাসক। এমতাবস্থায় তারা তাদের বরাদ্দকৃত প্লটে ব্যবসা বানিজ্য পরিচালনা করে আসছিলেন। কিন্তু ১৯৮৬-৮৭ সালে পরাপর ২বার বাজারে আগুনে পুড়ে যায়। ওই সময়ে পার্বত্য অঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং ওই প্লটের মালিকগণ পুনর্বাসন এলাকায় বসবাস করার কারণে বাজারে এসে প্লট গুলো দখলে নিতে পারেনি। পরে পার্বত্য অঞ্চলের অস্থিরতা ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারনে প্লটগুলো বেদখল হয়ে পড়ে।
ভুক্তভোগীরা আরো জানায়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নানিয়ারচর জোনের নিকট তারা অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের আবেদন করলে সেনাবাহিনী তাদের কাগজপত্র যাচাই পূর্বক বাজার ফান্ড কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে পরামর্শ দেন। সে অনুযায়ী তারা বাজার ফান্ড প্রশাসকের কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে সংশ্লিষ্ট কার্যালয় থেকে প্লটের সীমানা চিহ্নিতকরণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
এবিষয়ে কানুনগো নির্মল কান্তি চাকমা বলেন, আজ ৫৩, ৫৫, ৫৯, ৬২, ৬৩ ও ৬৫নং প্লটের সীমানা চিহ্নিত কছি। এর মধ্যে ৫৫নং প্লটের জায়গা ডিমার্কেশনের সময় সুমন ও শিমু বাধা প্রদান করে। আজকে ৬টি প্লটের সীমানা চিহ্নিত করেছি। আমরা নিয়ম অনুযায়ী প্রতিবেদন দিব। পরবর্তিতে নিদের্শনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরো জানায়, বিশ্বজিৎ, প্রশান্ত কুমার চাকমা গং, বাবুল কর্মকার ও উজ্জল মিত্র সহ তারা এসব প্লট অবৈধভাবে দখল করে আছে। তাই ডিমার্কেশন করা হলেও অবৈধ দখল থাকায় তাদের কে খালি জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।
এসময় নানিয়ারচর সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বাপ্পি চাকমা, ইউপি সদস্য প্রিয়তোষ দত্ত, ভুক্তভোগী মো. জাকির হোসেন, আমির হোসেন, মো. ফোরকান, মো. উজ্জ্বল, জোবেদা খাতুন, মনসুর আলী, বাবুল আকন্দ ও বাজার ব্যবসায়ী ওমর ফারুক সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কারণে বাজার ফান্ডের জায়গা সঠিকভাবে চিহ্নিত ও নিয়ন্ত্রণে না থাকায় এ কার্যক্রমকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়াও দীর্ঘদিন পর বাজার ফান্ডের সীমানা চিহ্নিতকরণ এ কার্যক্রমের ফলে প্রকৃত জায়গা নির্ধারণ এবং ভবিষ্যতে জায়গা নিয়ে বিরোধ নিরসনের পথ তৈরি হবে বলে আশা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা।
