নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
নাগরিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং স্থানীয় পর্যায়ে গণতান্ত্রিক চর্চা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে রাঙামাটিতে এনজিও, নাগরিক সংগঠন, কমিউনিটি দলের প্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন অংশীজনদের অংশগ্রহণে এক বহুপক্ষীয় অংশীজনের সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আশিকা ডেভেলাপমেন্ট এসোসিয়েটস’র এম্পাওয়ারমেন্ট প্রকল্প ও ‘নাগরিকতা: সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড (সিইএফ)’ এর আয়োজনে এবং সুইজারল্যান্ড দূতাবাস, গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অব কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এ সংলাপের আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় রাঙামাটি জেলা সদরের নিউমার্কেট এর আশিকা কনেভনশন পার্কের হলরুমে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে আশিকা ডেভেলপমেন্ট এসোসিয়েটস’র প্রোগ্রাম ম্যানেজার সুব্রত খীসা’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাট ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রমোদ খীসা।
সংলাপের শুরুতে আশিকার প্রোগ্রাম ম্যানেজার সুব্রত খীসা এম্পাওয়ারমেন্ট প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা করেন। তিনি বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় নাগরিক সমাজ সংগঠন, কমিউনিটি ভিত্তিক সংগঠন ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মকে আরও সক্রিয় ও সক্ষম করে তোলার পাশাপাশি নাগরিকদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করা হচ্ছে।
এ সময় বক্তারা বলেন, সমাজের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সমস্যা সমাধান, সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি সংগঠন ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
বক্তারা আরও বলেন, এমন সংলাপের মাধ্যমে বিভিন্ন অংশীজনের মধ্যে পারস্পরিক মতবিনিময় ও বোঝাপড়া বৃদ্ধি পায়, যা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে সহায়তা করে। তারা স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এসময় রাঙামাটি সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা স্নিগ্ধা তালুকদার, কাপ্তাই উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রিনি চাকমা, নানিয়ারচর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ধীমান চাকমা, ট্রেডিসনাল লিডার, কাপ্তাই ভার্যাতলী মৌজার হেডম্যান থোয়াই অং মারমা-সহ বিভিন্ন এনজিও, কমিউনিটি সংগঠন, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা এবং স্থানীয় অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা নাগরিক অধিকার, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদারের বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।
