নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
বাবা মায়ের টান পোড়েনের সংসারে ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, অদম্য স্পৃহা ও কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন রাঙামাটির কৃতি ও মেধাবী শিক্ষার্থী আইনজীবী মো. জামাল হোসেন।
সম্প্রতি বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এর অধীনে অনুষ্ঠিত বার কাউন্সিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার গৌরব অর্জন করেন অ্যাডভোকেট জামাল হোসেন।
তার এই সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও প্রতিকূলতার মধ্যেও এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় মনোবলই তাদের এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি বলে মনে করছেন তার স্বজনরা।
মোঃ জামাল হোসেন মহিলা কলেজ এলাকার মরহুম আবু মুছার কনিষ্ঠ পুত্র। রাঙামাটি সিনিয়র মাদ্রাসা থেকে ২০১০ সালে দাখিল এবং ২০১২ সালে আলিম পরীক্ষায় এ+ গ্রেডে উত্তীর্ণ হন। পরে রাঙামাটি সরকারী কলেজ থেকে অর্থনীতিতে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। উচ্চশিক্ষার ধারাবাহিকতায় তিনি পরবর্তীতে চিটাগং ল কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন।
জামাল হোসেনের শিক্ষাজীবন ছিল সংগ্রামমুখর। আর্থিক অনটন ও পারিবারিক প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি নবম শ্রেণি থেকেই টিউশনি করে নিজের পড়াশোনার খরচ চালিয়ে যান।
ভোরবেলা থেকে শুরু করে ক্লাসের সময় বাদ দিয়ে রাত ৮টা বা ৯টা পর্যন্ত টিউশনি করতেন তিনি। সেই সঙ্গে অসুস্থ মা-বাবার চিকিৎসা ব্যয় বহন করেও পড়াশোনায় অবিচল ছিলেন। জীবনের নানা বাধা-বিপত্তিকে উপেক্ষা করে ধৈর্য ও পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি আজ আইন পেশায় প্রবেশের এই গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছেন, যা তরুণ সমাজের জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে থাকবে।
এদিকে রাঙামাটির এই কৃতি শিক্ষার্থীর সাফল্যে জেলার শিক্ষিত সমাজ, সহপাঠী ও শুভানুধ্যায়ীরা আনন্দ ও গর্ব প্রকাশ করেছেন। তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, মোঃ জামাল হোসেন আইন পেশায় সততা, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধকে সমুন্নত রেখে সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন এবং ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবেন।
স্থানীয়রা মনে করেন, প্রতিকূলতার মধ্যেও যারা অধ্যবসায় ও পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের লক্ষ্য অর্জন করেন, তাদের সাফল্য সমাজের অন্য তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকে। রাঙামাটির এই নবীন আইনজীবীর সাফল্যও তেমনই একটি অনুপ্রেরণাদায়ক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
উল্লেখ্য, রাঙামাটি জেলার মোঃ আবু তালেব, মোঃ জয়নাল আবেদীন, সিম্পল চাকমা স্মীথ ও দীলিপ চাকমা সহ ১৪জন মেধাবী শিক্ষার্থী এবার বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে আইনজীবী হিসেবে আত্মপ্রকাশের সুযোগ পেয়েছে।
