নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় এক নবজাতকের মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। তিনদিন বয়সী ওই শিশুকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সে অক্সিজেন সাপোর্ট না দেওয়ার কারণে মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
নবজাতকের বাবা আরিফুল ইসলাম জানান, শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুর ৩টার দিকে ভাসান্যদম ইউনিয়নের ঘনমোড় শীলকাটা ছড়া এলাকা থেকে অসুস্থ হয়ে পড়া তার তিনদিনের শিশুকে দ্রুত লংগদু সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে রেফার করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, রেফার করার পর অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিয়ে শুরু হয় জটিলতা। সরকার নির্ধারিত ভাড়া ১৪০০ টাকা হলেও চালক রত্ন বিকাশ চাকমা ২০০০ টাকা দাবি করেন। পরে দরকষাকষির একপর্যায়ে ১৫০০ টাকায় রাজি হলেও যাত্রাপথে চালকের আচরণ ছিল অস্বাভাবিক ও আপত্তিকর। খারাপ রাস্তায় দ্রুতগতিতে এবং ভালো রাস্তায় ধীরগতিতে গাড়ি চালানোসহ নানা অসঙ্গতি লক্ষ্য করা যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আরিফুল ইসলাম আরও জানান, খাগড়াছড়ি পৌঁছানোর পর একটি প্রাইভেট হাসপাতালের সামনে গাড়ি থামিয়ে হঠাৎ করে নবজাতকের অক্সিজেন সাপোর্ট খুলে ফেলা হয়। এতে শিশুটি শ্বাসকষ্টে ভুগে ৫ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যেই অ্যাম্বুলেন্সে মারা যায় বলে দাবি করেন তিনি। পরে চালক ভাড়া নিয়ে চলে যান এবং পরিবারটি বাধ্য হয়ে অন্য পরিবহনে লংগদুতে ফিরে আসে।
এ ঘটনায় তিনি তার সন্তানের মৃত্যুর সুষ্ঠু বিচার দাবি করে বলেন, “আমার সঙ্গে যে অন্যায় হয়েছে, তা যেন আর কোনো পরিবারের সঙ্গে না হয়। অভিযুক্ত চালকের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অ্যাম্বুলেন্স চালক রত্ন বিকাশ চাকমা বলেন, নবজাতকের মা নিজেই অক্সিজেন খুলে ফেলেছেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, বকশিস হিসেবে কিছু অতিরিক্ত টাকা চেয়েছিলেন।
এ বিষয়ে লংগদু সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. নিশাত জাহান নওরীন জানান, ঘটনাটি তাদের নজরে এসেছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জিন্নাত আলম বর্তমানে রাঙ্গামাটিতে প্রশিক্ষণে রয়েছেন। তিনি ফিরে এলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।
ঘটনাটি এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে এবং দ্রুত তদন্তের দাবি উঠেছে।

